কল্পনা করুন, চাকরির সাক্ষাৎকারের পর আপনি রান্নাঘরে দাঁড়িয়ে ফোনে একটি ইমেইল পড়ছেন।

"আপনার সময়ের জন্য ধন্যবাদ। আমরা অন্য একজন প্রার্থীকে নির্বাচন করেছি।"

আপনি আপনার কাজের উদাহরণগুলো প্রস্তুত করেছিলেন, ট্রেনে বসে উত্তরগুলো অনুশীলন করেছিলেন, আর সাক্ষাৎকার শেষে আপনার মনে হয়েছিল, হয়তো ভালোই হয়েছে।

এখন আপনার মন এমন কিছু কথা যোগ করছে, যা নিয়োগকর্তা লেখেননি।

একজন বন্ধু ফোন করলে আপনি বলেন, "নিশ্চয়ই আমার কথা খুব বোকা বোকা শোনাচ্ছিল।"

আপনার বন্ধু জিজ্ঞেস করে, "ওরা কি তা বলেছে?"

"না।"

উত্তরটি বাস্তব। কিন্তু আপনি এর যে অর্থ করছেন, তা অনেক কম নিশ্চিত।

উত্তরটি কী বলেছে, আর কী বলেনি

ধরুন, কোনো নাটকীয় কিছু করার আগে আপনি পরের দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করলেন। তারপর আপনি ছোট্ট একটি জবাব পাঠালেন: "আমাকে জানানোয় ধন্যবাদ। সম্ভব হলে, এ ধরনের পদের জন্য আমি কোন একটি জায়গায় উন্নতি করতে পারি, তা কি বলবেন?"

দলটি সংক্ষেপে উত্তর দিল। তারা এমন একজনকে বেছে নিয়েছে, যার এমন একটি টুলে অভিজ্ঞতা আছে, যা আপনি কাজে ব্যবহার করেননি।

পরে আপনি বলেন, "তাহলে এটাই ব্যাপার। আমার অনেক কিছুতেই ঘাটতি আছে।"

আপনার বন্ধু মাথা নাড়ে। "এর মানে এই চাকরির জন্য ওই টুলটি দরকার ছিল। এটা সব চাকরি সম্পর্কে সবকিছু বলে না।"

আপনারা একসঙ্গে একই ধরনের তিনটি শূন্যপদ খুলে দেখেন। একটিতে ওই টুলটি চাওয়া হয়েছে। একটিতে বলা হয়েছে, এটি কাজে লাগে, কিন্তু অপরিহার্য নয়। আরেকটিতে ক্লায়েন্টের সঙ্গে যোগাযোগের ওপর বেশি জোর দেওয়া হয়েছে, যেটি আপনি আগেই ভালো করেন।

আপনি প্রতিক্রিয়াটি লিখে রাখেন, যদি তা আপনার পক্ষে সম্ভব হয় তাহলে ওই টুলের ওপর কম খরচের একটি প্রাথমিক কোর্সে নাম লেখান, এবং আপনার আবেদনের একটি লাইন বদলে দেন, যাতে আপনার তুলনামূলক শক্তিশালী অভিজ্ঞতাটি আরও স্পষ্ট হয়। তারপর রাত বারোটা পর্যন্ত খুঁজে যেতে থাকার বদলে সেদিনের জন্য আপনি ল্যাপটপ বন্ধ করে দেন।

পরের উত্তরটিও হয়তো ‘না’ হতে পারে। কিন্তু আপনি একটি অসম্পূর্ণ উত্তরকে নিজের সম্পর্কে চূড়ান্ত রায় বানান না।

আমরা যা শিখতে পারি

প্রত্যাখ্যান আপনাকে একটি ফলাফল জানায়। কখনও কখনও এটি একটি কারণও জানায়। সেটা কাজে লাগার মতো তথ্য হতে পারে, কিন্তু আপনার মূল্য, আপনার ভবিষ্যৎ, বা সিদ্ধান্তের পেছনের সবকিছুর পূর্ণ বিবরণ এটি নয়।

আপনি যখন কষ্ট পান, তখন আপনার মন খুব দ্রুত ফাঁকা জায়গাগুলো ভরে ফেলতে পারে। "তারা অন্য কাউকে বেছে নিয়েছে" থেকে তা হয়ে যেতে পারে "আমি সক্ষম নই।" এই লাফটি বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়, কারণ এটি কষ্ট দেয়—এ জন্য নয় যে এটি প্রমাণিত।

যদি প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়, তা সাবধানে ব্যবহার করুন। একটি বার্তা থেকে রায় টানার বদলে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কোনো ধারা দেখা যায় কি না, তা দেখুন। বাস্তব কোনো একটি ঘাটতি নিয়ে কাজ করা সার্থক হতে পারে। একজন নিয়োগকর্তার পছন্দকে আপনার পুরো পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দু বানাতেই হবে, এমন নয়।

কাজের বাইরেও এটি গুরুত্বপূর্ণ। ব্যক্তিগত সম্পর্কেও, কেউ না বললে সেটি এমন আমন্ত্রণ নয় যে আপনি আরও ভালো ব্যাখ্যা না পাওয়া পর্যন্ত জিজ্ঞেস করতেই থাকবেন। কেউ মত পাল্টানোর কোনো পথ না দেখিয়েও না বলতে পারে। সেই উত্তরকে সম্মান করুন, আর হতাশাকে হতাশাই থাকতে দিন—এটিকে আপনার মূল্যের মাপ হিসেবে দাঁড় করাবেন না।

একটি ‘না’ তথ্য, আপনাকে সম্পূর্ণভাবে সংজ্ঞায়িত করে দেওয়ার মতো কিছু নয়।

আজই চেষ্টা করুন

একবার প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর দুটি কলাম লিখুন: মানুষটি আসলে কী বলেছে, আর আপনি ধরে নিচ্ছেন এর মানে কী। এটিকে এক ঘণ্টা রেখে দিন, তারপর কাজে লাগার মতো একটি তথ্য এবং প্রশ্ন তোলার মতো একটি ধারণায় বৃত্ত দিন।

← ফিরে যান নিজের পথ খোঁজা