ভাবুন, বাড়ি ফেরার পথে পরিবারের একজনের ছবির নিচে বার্তা এল: ‘দয়া করে উত্তর দিন। এখনই টাকা দরকার।’

ঘটনাটি সম্ভব মনে হয়। টাকার অঙ্ক খুব বড় নয়। বার্তায় ব্যক্তিগত কোনো কথাও থাকতে পারে—ফোন ভেঙে গেছে, ট্রেন মিস হয়েছে বা বিষয়টি গোপন রাখতে হবে। একটু ইতস্তত করতেই আপনার অপরাধবোধ হতে পারে, বিশেষত আপনি যত্নশীল হয়ে দ্রুত সাহায্য করতে চাইলে।

ঠিক এ সময়েই একটু থামা গুরুত্বপূর্ণ। পরিচিত নাম, ছবি, জরুরি সুর বা ব্যক্তিগত তথ্য অনুরোধটিকে সত্যি মনে করাতে পারে, কিন্তু কে পাঠিয়েছেন তা প্রমাণ করে না। আগে যাচাই করা নির্দয়তা নয়। এতে আপনার টাকা সুরক্ষিত থাকে এবং সাহায্য সঠিক ব্যক্তির কাছে পৌঁছায়।

ব্যক্তিগত মনে হওয়া একটি বার্তা

ধরুন, বার্তায় লেখা আছে, ‘আমার ফোন ভেঙে গেছে। অন্যের ফোন ব্যবহার করছি। যাতায়াতের টাকা পাঠান। মাকে বলবেন না।’

আপনি এইমাত্র ভাড়া দিয়েছেন। বাকি টাকা দিয়ে সপ্তাহের খাবার চলতে হবে। তবু অর্থ পাঠানোর অ্যাপ খুললেন।

তারপর থামলেন।

লিখলেন, ‘আপনি কোথায়?’ উত্তর নেই।

তাই ফোনে আগে থেকে রাখা নম্বরে কল করলেন।

পরিবারের মানুষটি দ্বিতীয়বার রিং হতেই ধরলেন। ‘হ্যালো, কী হয়েছে?’

আপনি জিজ্ঞেস করলেন, ‘এইমাত্র কি টাকা চেয়ে আমাকে বার্তা পাঠিয়েছেন?’

‘না। আমি তো বাড়িতে।’

প্রায় টাকা পাঠিয়ে ফেলছিলেন বলে এক মুহূর্ত নিজেকে বোকা মনে হতে পারে। তারপর স্বস্তি আসে। অ্যাকাউন্টটি ব্লক করেন এবং কোনো কোড দিয়েছেন বা অর্থপ্রদান অনুমোদন করেছেন কি না যাচাই করেন। চাপের মুখে কাজ করলে প্রতারক আরও টাকা চাইতে পারত। ভাড়া, খাবার বা যাতায়াতের প্রয়োজনীয় টাকাও হারাতে পারতেন।

আপনার থেমে যাওয়া যত্ন কমায়নি। সত্যিই সাহায্য দরকার কি না, তা যাচাই করতে সাহায্য করেছে।

আমরা যা শিখতে পারি

তাড়া আর গোপনীয়তা অনেক সময় চাপ তৈরির অংশ। ‘এখনই করুন।’ ‘কাউকে বলবেন না।’ এসব কথা আপনাকে যাচাই করতে বাধা দেওয়ার জন্য। এই চাপকে সতর্কসংকেত হিসেবে দেখুন, আরও দ্রুত কাজ করার প্রমাণ হিসেবে নয়।

সহজ একটি নিয়ম: টাকা দেওয়ার আগে যাচাই করুন। আগে থেকেই বিশ্বাস করেন এমন পথে যোগাযোগ করুন—ফোনে রাখা নম্বর, সরাসরি কথা বলা বা নিয়মিত ব্যবহার করা অফিসিয়াল অ্যাপ কিংবা ওয়েবসাইট। অপ্রত্যাশিত বার্তার ভেতরের নম্বর বা লিংকের ওপর নির্ভর করবেন না।

দুটি বিষয় পরীক্ষা করুন। প্রথমত, ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানটি সত্যিই তারাই কি না। দ্বিতীয়ত, টাকা দেওয়ার কারণটি যুক্তিসংগত কি না। আসল ব্যক্তিও ভুল তথ্য পাঠাতে পারেন বা বিভ্রান্ত হয়ে চাইতে পারেন।

পাসওয়ার্ড, পেমেন্ট পিন বা একবার ব্যবহারযোগ্য নিরাপত্তা কোড কখনও শেয়ার করবেন না। ইতিমধ্যে টাকা পাঠিয়ে প্রতারণার সন্দেহ হলে দ্রুত ব্যাংক বা অর্থপ্রদান সেবার অফিসিয়াল সহায়তা পথে যোগাযোগ করুন। বার্তা ও লেনদেনের তথ্য রাখুন। টাকা ফেরত পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই; ফেরত এনে দেওয়ার জন্য আরেকটি ফি চাইলে সেটিও নতুন প্রতারণা হতে পারে।

আজই চেষ্টা করুন

ব্যাংক বা অর্থপ্রদান সেবার অফিসিয়াল সহায়তার যোগাযোগ সংরক্ষণ করুন, তারপর ফোনে একটি নোট রাখুন: ‘অপ্রত্যাশিত টাকার অনুরোধ এলে দেওয়ার আগে অন্য একটি বিশ্বস্ত পথে যাচাই করব।’

← ফিরে যান নিজের জীবন গড়া